ঋণ পুনঃতফসিলে কমছে খেলাপি ঋণ

0
ঋণ পুনঃতফসিলে কমছে খেলাপি ঋণ

দেশে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শিথিল ও সহায়ক পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালার কারণে অনেক ঋণ নিয়মিতকরণের আওতায় এসেছে। এর ফলে ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমে এসেছে এবং সামগ্রিক আর্থিক সূচকে উন্নতির ধারা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ২০২৫ সালে ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এটি ব্যাংকের কার্যক্রমে উন্নত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠনের ইতিবাচক প্রভাবকেই নির্দেশ করে।

এই মুনাফার নেপথ্যে ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া একটি শিথিল নীতির অধীনে ব্যাপক ঋণ পুনঃতফসিল। এর ফলে সোনালী ব্যাংক মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ ২২ কমাতে ৩২ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়।

খেলাপি ঋণ নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হওয়া সত্ত্বেও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটিকে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জনে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিথিল নীতির অধীনে ব্যাপক ঋণ পুনর্নির্ধারণ অভিযানের ফলে ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পুনঃতফসিল নীতি ব্যাংকিং খাতে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি এনে দেয় এবং আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করে।

ব্যাংকাররা মনে করছেন, পুনঃতফসিল সুবিধার কারণে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থায় নমনীয়তা এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলেও ব্যাংক খাতের সার্বিক পুনর্গঠন ও নীতিগত সহায়তার কারণে ভবিষ্যতে একটি আরও সুসংগঠিত ও স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here