বৈশ্বিক টুনার্মেন্টে ভারতে যেতে পারবে পাকিস্তান

0
বৈশ্বিক টুনার্মেন্টে ভারতে যেতে পারবে পাকিস্তান

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে হামলা পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি দেখা দেয়। রাজনৈতিক টানাপোড়নের মধ্যে এর প্রভাব ক্রিকেটেও। এরপর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কেবল আইসিসির বৈশ্বিক টুনামেন্টে মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ।

এর মধ্যে গত বছর ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে আবারও প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর পাকিস্তানে অপারেশন সিন্ধুর অভিযান চালায় ভারত। এরপর থেকে দিল্লি ও ইসলামাবাদের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সম্প্রীতি আইসিসির টুর্নামেন্টে ক্রিকেটীয় সৌন্দর্য হাত মেলানো থেকে সরে এসেছেন উভয় দেশের ক্রিকেটারা। এমন পরিস্থিতিতে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির ক্রীড়াবিদ ও দলগুলোকে তাদের মাটিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া দায়বদ্ধতাকে পৃথক করে একটি সুস্পষ্ট নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ভারতের জারি করা একটি দপ্তর স্মারকলিপিতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও দলগুলো ভারতে আয়োজিত বহুপাক্ষিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। একই সঙ্গে ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের জন্য আরও সহায়ক ভিসা ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। এই নীতিটি দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক ক্রীড়ার মধ্যে একটি দৃঢ় সীমারেখা টেনেছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, পরস্পরের দেশে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতীয় দলগুলো পাকিস্তানে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে না। আমরা পাকিস্তানি দলগুলোকেও ভারতে খেলার অনুমতি দেব না। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নীতি এবং আমাদের নিজেদের ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হব।

এতে জোর দেওয়া হয়েছে, ‘ভারতীয় দল ও খেলোয়াড়রা এমন সব আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে যেখানে পাকিস্তানের দল বা খেলোয়াড়ও রয়েছে। একইভাবে পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও দলগুলো ভারত আয়োজিত এ ধরনের বহুপাক্ষিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে, যা তাদের জন্য দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বহু-শাখার ইভেন্টগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ প্রশস্ত করবে।

দেশটির সরকার বলেছে, পাকিস্তানকে নিয়ে আয়োজিত ক্রীড়া আয়োজনের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি সেই দেশের সঙ্গে তার সামগ্রিক নীতিকেই প্রতিফলিত করে। তবে একটি দ্বৈত পন্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার মাধ্যমে কোনো দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে পূর্ণ সম্মতি– এই নীতিটি ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাহিদার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। যেখানে অংশগ্রহণের নিয়মকানুন বর্জনের জন্য খুব কমই সুযোগ রাখে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ভারতে বা বিদেশে আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক আয়োজনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর রীতি এবং নিজেদের ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য স্থান হিসেবে ভারতের উত্থানকেও বিবেচনায় রাখা প্রাসঙ্গিক।

এই বিজ্ঞপ্তিটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে যখন ভারত নিজেকে একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। দেশটি ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও ২০৩৮ সালের এশিয়ান গেমসের জন্য জোরালোভাবে আবেদন জানিয়েছে। অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া (ওসিএ)-র কর্মকর্তারা ভারতের আবেদন মূল্যায়ন করতে আহমেদাবাদ সফরে আসছেন। ভারত ২০২৯ সালে ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপও আয়োজন করবে।

একই সঙ্গে আগামী মাসগুলোতে জুলাই-আগস্টে কমনওয়েলথ গেমস এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ও পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদদের একাধিকবার একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে হকি টুর্নামেন্টেও ভারত ও পাকিস্তান অন্তত তিনবার একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছে – ২৩ ও ২৬ জুন লন্ডনে এফআইএইচ প্রো লিগে এবং আবার ১৯ আগস্ট আমস্টারডামে বিশ্বকাপে।

২০২৫ সালের এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের খেলা নিয়ে জনরোষ সৃষ্টি হয়েছিল। গত আগস্টে বিহারে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানি হকি দলকে ভিসা দেওয়ায় সরকারও সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

সরকার ভিসা সংক্রান্ত একটি পুনরাবৃত্তিমূলক বিরোধের বিষয় সমাধানের জন্যও পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ক্রীড়াবিদ, দলের কর্মকর্তা, কারিগরি কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদাধিকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নির্বিঘ্ন চলাচল’ নিশ্চিত করার জন্য ‘তাদের দাপ্তরিক মেয়াদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত, মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা’ দেওয়া হবে। এই সুস্পষ্ট ঘোষণাটি সেই বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে যা প্রায়শই অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হতো, বিশেষ করে অলিম্পিক ক্রীড়াগুলিতে যেখানে বিশ্ব ফেডারেশনগুলি উন্মুক্ত অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানি বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অংশগ্রহণকারীদের ভিসা নিয়ে বিলম্ব এবং অনিশ্চয়তা মাঝে মাঝে বিশ্ব সংস্থাগুলোর সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আয়োজক হিসেবে তাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বহুপাক্ষিক ইভেন্টগুলি উন্মুক্ত থাকবে—এই কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সরকার অস্পষ্টতা দূর করছে বলে মনে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভারত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তানিদের ভারতে প্রবেশ ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বিঘ্ন চলাচল সহজতর করবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here