মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার চরম মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইরান। গতকাল সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমিরাতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এই ভয়াবহ হামলায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও অন্তত তিনজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৫৪৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,২৬০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে প্রতিরক্ষা বিভাগ। তবে সোমবারের হামলার পর দেশটিতে আহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ২২৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্দেশনার আলোকে আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত আজমানের সকল বেসরকারি স্কুলে অনলাইন ক্লাস চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। তিনি আমিরাতকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে বলেন, এই হামলা সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং দেশটির জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে জানান যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাই ইইউ কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কাজ করে যাবে।
এদিকে বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি বিপজ্জনক উস্কানি হিসেবে অভিহিত করেছে। বাহরাইন সরকার বলেছে, এই আক্রমণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। জিসিসি মহাসচিবের সুর মিলিয়ে বাহরাইন একে অগ্রহণযোগ্য আস্ফালন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস

