মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় জগত, নটিংহামে এক হাজারতম গুহা আবিষ্কার!

0
মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় জগত, নটিংহামে এক হাজারতম গুহা আবিষ্কার!

নটিংহামের মাটির নিচে এক হাজারতম গুহা আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে শহরটি। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় গুহা নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত এই ভূগর্ভস্থ এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে নটিংহামের শত বছরের পুরনো ইতিহাস এবং নগর জীবনের বিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, নটিংহাম শহরটি মূলত নরম বেলেপাথরের ওপর অবস্থিত হওয়ায় প্রাচীনকাল থেকেই এখানে গুহা খনন করা তুলনামূলক সহজ ছিল। ঐতিহাসিক নথিপত্রে এই গুহাগুলোর ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায় ৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে, যখন আসের নামক একজন ওয়েলশ সন্ন্যাসী শহরটিকে গুহার দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। সেই মধ্যযুগীয় সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই প্রকোষ্ঠগুলো বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মধ্যযুগে এই গুহাগুলো মূলত কারাগার, গোপন সুড়ঙ্গ, মাল্টিং এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে ভিক্টোরীয় যুগে এগুলোর ব্যবহার বদলে যায় এবং তখন সেখানে বড় পরিসরে বিয়ার তৈরি ও মাশরুম চাষ শুরু হয়। এমনকি আধুনিক যুগে বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ বিমান হামলার সময় নটিংহামের সাধারণ মানুষ এই গুহাগুলোকেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

নটিংহাম সিটি কাউন্সিলের প্রত্নতাত্ত্বিক স্কট লোম্যাক্স ২০০৮ সাল থেকে এই গুহাগুলোর ওপর গবেষণা শুরু করেন এবং একটি অফিশিয়াল ডাটাবেজ তৈরি করেন। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে মাটির নিচে মাত্র ৪২৫টি গুহা রয়েছে, কিন্তু গত কয়েক বছরে ঐতিহাসিক রেকর্ডের নিবিড় পর্যালোচনার মাধ্যমে শত শত নতুন গুহার সন্ধান পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৮০টি নতুন গুহা আবিষ্কৃত হয়েছে যার মধ্যে ১৮ শতকের বালির খনি এবং ১৯ শতকের বিয়ার সেলার উল্লেখযোগ্য।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ১,০০০টি গুহার এই প্রাপ্তি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি ১,০০০ বছরের জীবন্ত ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। শহরের আধুনিকায়নের ফলে অনেক গুহা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও এই নতুন তালিকাভুক্তি সেগুলোকে ভবিষ্যতে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। নটিংহামের মাটির নিচে এখনও এমন অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে যা উন্মোচনের অপেক্ষায় প্রত্নতাত্ত্বিকরা তাদের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: টেলিগ্রাফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here