কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব দিতে চায় সিঙ্গাপুর-নিউজিল্যান্ড

0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব দিতে চায় সিঙ্গাপুর-নিউজিল্যান্ড

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সিঙ্গাপুর ও নিউজিল্যান্ড। যৌথ প্রচেষ্টায় এআইয়ের বাস্তব প্রয়োগে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং।

সোমবার (৪ মে) সিঙ্গাপুর-নিউজিল্যান্ড লিডারশিপ ফোরামে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনীতির দেশগুলোর পক্ষে বিশ্বের বৃহৎ এআই ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করা কঠিন। তবে সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ওং জানান, উন্নত উৎপাদন, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে ইতোমধ্যে একটি জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষদ গঠন করেছে সিঙ্গাপুর। সবুজ অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খল বৃদ্ধিতেও দুই দেশ একত্রে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজার, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

ওং উল্লেখ করেন, নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণে সিঙ্গাপুর একটি কার্যকর আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।

‘বৈশ্বিক অস্থিরতা এখন নতুন বাস্তবতা’

ওং-এর মতে, কোভিড-১৯ মহামারী ও সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দেখিয়েছে, বৈশ্বিক বিঘ্ন বা অস্থিরতা এখন নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আরও স্থিতিস্থাপক হতে হবে। বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে কাজ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত বিশ্বে আমাদের দ্রুত এগোতে হবে, ঝুঁকি কমাতে হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।’
 
২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির ভিত্তিতেই এই সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আয়োজিত লিডারশিপ ফোরামে কৃষি-খাদ্য, বিমান চলাচল, জৈবপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। ফোরামে দুই দেশের নেতারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক পরিবহন প্রতিষ্ঠান ‘কমফোর্টডেলগ্রো’ অকল্যান্ডের মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের দুগ্ধ সমবায় প্রতিষ্ঠান ‘ফোনটেরা’ সিঙ্গাপুরকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। যার মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে তাদের পণ্য সরবরাহ করা হয়।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বর্তমানে সিঙ্গাপুরে তিন দিনের সরকারি সফরে আছেন। এই সফরকালেই উদ্বোধনী লিডারশিপ ফোরামটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী ওং দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরে অংশ নেবেন। যা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here