কানাডার মাটিতে শেষ পর্যন্ত প্রবেশের অনুমতি মিললেও আত্মসম্মান রক্ষায় ফিরে যাওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবলাঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তাজ জানিয়েছেন, কানাডা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশের ব্যাপারে নমনীয় হলেও পুরো বিষয়টি ছিল এক প্রকার অনিচ্ছাসত্ত্বের দায়সারা অনুমতি। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাজ ও তাঁর সহকর্মীরা ইস্তাম্বুলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আনুষ্ঠানিকভাবে নথিপত্রে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ না থাকলেও মেহদি তাজের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ছিল প্রায় একই রকম অপমানজনক।
ইরানি ফুটবলের ওপর এমন নেতিবাচক প্রভাব এই প্রথম নয়। এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও মেহদি তাজ ও তাঁর সহকর্মীদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় আমেরিকা।
অথচ সেই ড্র অনুষ্ঠানের মঞ্চেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেছিলেন। মেহদি তাজের পাসপোর্টে কানাডার বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও এবারের এই টালবাহানা ইরানি ফুটবলের প্রতি বৈশ্বিক রাজনীতির বিরূপ আচরণকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
মাঠের ফুটবলেও ইরান বর্তমানে বেশ বিপর্যস্ত সময় পার করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে বর্তমানে ঘরোয়া লিগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে এই লিগ পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
প্রস্তুতির ঘাটতি মেটাতে গত মার্চে তুরস্কের আন্তালিয়ায় ক্যাম্প করে দুটি ম্যাচ খেললেও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মহড়ার জন্য আবারও সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। জুরিখে ফিফার আসন্ন বৈঠকে এই সংকটের কোনো টেকসই সমাধান আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।

