তবুও ইরানের আশপাশে থাকছে মার্কিন সেনা

0
তবুও ইরানের আশপাশে থাকছে মার্কিন সেনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিক ঘোষণায় জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান শত্রুতার অবসান ঘটেছে। শুক্রবার কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত এখন আর নেই। 

হোয়াইট হাউসের এই অবস্থানের ফলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বেঁধে দেওয়া ১মে’র আইনি সময়সীমাটি কার্যত এড়িয়ে গেলেন ট্রাম্প। তবে শত্রুতা শেষ হওয়ার দাবি করলেও মধ্যপ্রাচ্যে এখনো বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট নিজেই স্বীকার করেছেন যে আমেরিকার জন্য ইরান এখনো বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযান শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে শুক্রবারই ছিল ট্রাম্পের জন্য শেষ দিন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি চলায় এই সময়সীমা এখন আর কার্যকর নয়। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এক শুনানিতে স্পষ্ট করেছেন যে তাদের মতে যুদ্ধবিরতির কারণে আইনি ঘড়ি এখন থমকে আছে। এদিকে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটর অ্যাডাম শিফ ও টিম কেইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বোমাবর্ষণ বন্ধ থাকলেও নৌবাহিনী এখনো ইরান উপকূলে অবরোধ ধরে রেখেছে, তাই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে দাবি করাটা আইনের লঙ্ঘন।

রিপাবলিকান শিবিরেও এই ইস্যু নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন আপাতত কোনো ভোটাভুটির সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও লিসা মুরকোস্কি এবং সুসান কলিন্সের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা সাফ জানিয়েছেন, জবাবদিহিতা ছাড়া এমন অনির্দিষ্টকালের সামরিক অভিযান চলতে পারে না। তবে কেন্টাকির কেভিন ক্র্যামারের মতো কট্টর সমর্থকরা মনে করেন, সংবিধান প্রেসিডেন্টকে অগাধ ক্ষমতা দিয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা ট্রাম্পের পক্ষেই ভোট দেবেন। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং জনমনে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মাঝে ট্রাম্পের এই কৌশল হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এক নতুন সাংবিধানিক লড়াইয়ের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here