হাম মোকাবিলায় কক্সবাজারে এমএসএফের চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম

0
হাম মোকাবিলায় কক্সবাজারে এমএসএফের চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম

বাংলাদেশজুড়ে হামের প্রকোপ বাড়ায় কক্সবাজারে নিজেদের চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করেছে মেডিসিন্স সাঁ ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। সংস্থাটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি চলমান টিকাদান কর্মসূচিতেও সহায়তা করছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের প্রায় ৬৪টি জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলায় বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করেন—যারা হামের সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। এখানকার ঘনবসতিপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাত্রার কারণে রোগটি নাজুক অবস্থায় থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্রুত সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

হেলথ সেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জনেরও বেশি সম্ভাব্য এবং ৪০ জন ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝেও প্রায় ১৬০ জন রোগী পাওয়া গেছে। 

এমএসএফ‑এর কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স বলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে জেলায় নিয়মিত হামের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু আমরা মার্চ মাস থেকে ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি এবং এপ্রিলে তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই এমএসএফ কক্সবাজারে তাদের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৮৪ জন হামে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে—যা বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চারগুণ বেশি। এর মধ্যে ৮২ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

কুতুপালং হাসপাতালেও ২০ দিনের ব্যবধানে ভর্তি হওয়া ৭১ জন রোগীর মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

স্টেনসেন্স বলেন, ক্যাম্পগুলোতে ল্যাবরেটরি‑নিশ্চিত হামের রোগীদের মধ্যে প্রায় তিন‑চতুর্থাংশই টিকা নেননি। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা না নেওয়া শিশুদের হারও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।

কক্সবাজারে এমএসএফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি সেবাকেন্দ্রে হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জামতলী ও হাকিমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ‘হসপিটাল অন দ্য হিল’, কুতুপালং হাসপাতাল এবং গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতালসহ একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্র।  ১ জানুয়ারি থেকে এমএসএফের টিম হামের উপসর্গে আক্রান্ত বা নিশ্চিত হওয়া ৩৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে ১০৩ জনের শারীরিক জটিলতা ছিল। এছাড়া এমএসএফ স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্তমানে চলমান ১০ দিনব্যাপী হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতেও সহায়তা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here