ওপেকের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) থেকেও সংযুক্ত আরব আমিরাত সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির সিনিয়র রিসার্চ স্কলার কারেন ইয়াংয়ের বরাত দিয়ে জার্মানির বার্লিনার জাইতুং পত্রিকা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
কারেন ইয়াংয়ের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মনে করেন, জিসিসি একটি একক সত্তা হিসেবে বর্তমানে মৃতপ্রায় এবং এর দেশগুলোর মধ্যবর্তী সংহতি এখন চরম সংকটের মুখে।
উল্লেখ্য, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে গঠিত এই আঞ্চলিক সংস্থাটি দীর্ঘকাল ধরে অভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি আমিরাতের পক্ষ থেকে ১ মে ২০২৬ থেকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং ওপেক প্লাস ত্যাগের ঘোষণা আসার পর এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এল।
যদিও আমিরাত কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী তেল উৎপাদন নীতি অব্যাহত রাখবে, তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই সিদ্ধান্তটি জিসিসি জোটের মধ্যকার গভীর ফাটলকেই নির্দেশ করছে। কারেন ইয়াংয়ের এই পর্যবেক্ষণ সত্যি হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
সূত্র: তাস

