বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিএসএফ

0
বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিএসএফ

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই সেসব স্থানের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএসএফের সাবেক মহাপরিচালক এবং পদ্মশ্রী পদকধারী প্রকাশ সিং এটিকে ‘নির্বোধ’ আইডিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এমন কিছু করলে এটি বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, কুমির আর সাপ কীভাবে বুঝবে কারা বাংলাদেশি আর কারা ভারতীয়। কে এমন প্রস্তাব দিয়েছে আমি জানি না, এটি নির্বোধ একটি আইডিয়া।

বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের উদাসীনতার কারণে অনেক বাংলাদেশি ভারতে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। তারা নির্বাচনের আগে এ বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করে। তখনই বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এমন অদুভুত প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএসএফের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেছেন, এই প্রস্তাবটি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। এটি কীভাবে কার্যকর করা যায় সেটির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিএসএফকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাহিনীটির এক কর্মকর্তা বলেছেন, “নদী তীরবর্তী ও অন্যান্য দুর্গম জলাভূমিতে বিষধর এসব প্রাণী ছাড়া নিয়ে বিএসএফও দ্বিধাবিভক্ত। কিছু কর্মকর্তা এটির বিরোধীতা জানিয়েছেন। কারণ এটি সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে বন্যার সময়। আগামী সপ্তাহে এ ইস্যু নিয়ে আরেকটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।”

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব অঞ্চল দুর্গম, বিশেষ করে নদী তীরবর্তী, যেখানে বিএসএফ সদস্যরা যেতে পারেন না, সেসব জায়গায় এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপারে কথা হচ্ছে। তার দাবি দুই দেশের মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী অঞ্চল রয়েছে যেগুলো নদী ও দুর্গম অঞ্চল।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here