শেষ মুহূর্তে যে কারণে আফ্রিকা সফর বাতিল করলেন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট

0
শেষ মুহূর্তে যে কারণে আফ্রিকা সফর বাতিল করলেন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট

শেষ মুহূর্তে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) সফর বাতিল করেছেন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। তার অভিযোগ, চীনের চাপের মুখে একাধিক দেশ তার বিমানের অনুমতি প্রত্যাহার করায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

তাইওয়ানের এক কর্মকর্তার দাবি, ভারত মহাসাগরীয় তিন দেশ- সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার- ‘তীব্র চাপ’ ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পারমিট বাতিল করে। যদিও চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং উল্টো ওই দেশগুলোর অবস্থানকে ‘উচ্চ প্রশংসনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটলো, যেখানে তাইওয়ানের কোনও প্রেসিডেন্টকে ফ্লাইট অনুমতি না পাওয়ায় বিদেশ সফর বাতিল করতে হলো।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সেশেলস ও মাদাগাস্কার কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা তাইওয়ানকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের অভিযোগ, কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে এসব অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

চীনের ‘এক চীন’ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে। যদিও তাইওয়ানের অনেক মানুষ নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই দ্বীপটিকে বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রেখেছে।

এর আগে চীনা সরকার লাই চিং তেকে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ ও ‘প্রণালীজুড়ে শান্তি বিনাশকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় লাই চিং তে চীনের এই পদক্ষেপকে ‘জবরদস্তিমূলক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “কোনও ধরনের হুমকি বা চাপ তাইওয়ানের বিশ্বসম্পৃক্ততার অঙ্গীকারকে নড়বড়ে করতে পারবে না।”

অন্যদিকে এসওয়াতিনি সরকার জানিয়েছে, লাইয়ের সফর বাতিল হওয়ায় তারা দুঃখিত, তবে এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না।

উল্লেখ্য, এসওয়াতিনি আফ্রিকার একমাত্র দেশ, যা এখনও তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। দেশটিতে রাজা তৃতীয় মসোয়াতির সিংহাসনে আরোহনের ৪০ বছর পূর্তি ও জন্মদিন উপলক্ষে ২২ থেকে ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল লাইয়ের।

তাইওয়ান সরকার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে একজন বিশেষ দূত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিকও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ মরিশাসের সমালোচনা করে বলেন, দেশটি যেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ান-চীন উত্তেজনার নতুন দিক তুলে ধরেছে এবং ছোট দেশগুলোর ওপর ভূরাজনৈতিক চাপের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here