ইইউ-বাংলাদেশ পিসিএ চুক্তি সই, সম্পর্কে নতুন মাত্রা

0
ইইউ-বাংলাদেশ পিসিএ চুক্তি সই, সম্পর্কে নতুন মাত্রা

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক সংস্করণ সই করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ চুক্তিতে সই করল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সদর দপ্তরে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং ইইউ’র হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া কালাস। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং ইইউ’র পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পামপোলিনি সই করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পিসিএ চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্পর্কের শুরুতে ইইউ বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও ২০০১ সালের সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে তা রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় এখন সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে পিসিএ চুক্তি সই হলো।

ঢাকায় ইইউ কার্যালয় এক প্রতিক্রিয়ায় জানায়, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এতে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, উচ্চতর সহযোগিতা এবং বিস্তৃত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে পাঁচ দফা আলোচনার পর এ চুক্তি সই হয়েছে। এখন ইউরোপের ২৭টি দেশের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইইউ বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। পিসিএ চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের উপস্থিতিতে এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

পিসিএ একটি আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি ও নিরাপত্তা, সুশাসন, মানবাধিকার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here