চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ সালকে বরণ করেছে জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসীরা। রোববার দেশটির রাজধানী বার্লিনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ছিল ঐতিহ্যবাহী লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মজাদার দেশীয় খাবারের বিশেষ আয়োজন।
জার্মানির বার্লিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাঙালির ঐতিহ্য’ ও তানপুরা মিউজিক স্কুলের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটিতে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে সর্বস্তরের প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ছুটির দিনটিতে নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বাংলার আবহমানকালের লোকজ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দিতে পেরে খুশি অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি।
বর্ষবরণে বসেছিল মেলাও। প্রবাসীদের দেওয়া বেশ কয়েকটি স্টলে ছিল চটপটি, ফুচকা, মিষ্টি, নানা স্বাদের পিঠাপুলি এবং দেশীয় কাপড়ের সমাহার।
এদিন বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক যোগ দিয়ে প্রবাসীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিন্স। তিনি এবং তার সহধর্মিনী বাংলাতেই উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে তার ভালো লাগার কথা জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের আন্তরিকতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্লিনের বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বর্ষবরণের মূল আকর্ষণ ছিল প্রবাসী শিশু শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শুরুতে সমবেত সংগীত “এসো হে বৈশাখ এসো এসো”-এর মাধ্যমে বর্ষকে বরণ করেন সকলে। এরপর ছোটদের পরিবেশনায় নৃত্য ও বাউলগান দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
আয়োজকরা জানান, ঝড় ও বাতাসের মতো প্রতিকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও সর্বস্তরের প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বর্ষবরণের অনুষ্ঠানকে পরিপূর্ণ করেছে। এ সময় সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান আয়োজকরা।
বাঙালির পরম অহংকারের ও হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনা প্রজন্মের হাত ধরে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে—এমন কামনা সর্বস্তরের প্রবাসীদের।

