সুন্দরবনে জিম্মিদশা থেকে দুই জেলে উদ্ধার, বনদস্যু আটক

0
সুন্দরবনে জিম্মিদশা থেকে দুই জেলে উদ্ধার, বনদস্যু আটক

সুন্দরবনে ‌‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযানে দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা দুই জেলে উদ্ধার এবং অস্ত্র ও গুলিসহ বনদস্যু ‘দয়াল বাহিনী’র এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবনের সকল বনদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর অংশ হিসেবে সুন্দরবনে পৃথক দুটি সফল অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র কাছে জিম্মি থাকা ১টি মাছধরার নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং অস্ত্র ও গুলিসহ বনদস্যু ‘দয়াল বাহিনী’র ১ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

গত ১৫ এপ্রিল মোংলার জয়মনিঘোল এলাকার শুয়োরমারা খালসংলগ্ন স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে এই ২ জন জেলে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র হাতে অপহৃত হয়। ডাকাতরা তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালায়।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জিম্মিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হলে ১৬ এপ্রিল বিকেল ৪টায় কোস্টগার্ড মোংলার মুর্তি খালসংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন ১টি কাঠের নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত ডাকাত ‘দয়াল বাহিনী’ সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ৬টায় কোস্টগার্ড ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ডাকাতদের ধাওয়া করে ২টি একনালা বন্দুক, ৯ রাউন্ড তাজা গুলিসহ ডাকাত ‘দয়াল বাহিনী’র ১ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

আটক তরিকুল (৩৫) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ ‘দয়াল বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।

আটক ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here