ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। এর ফলে মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়। যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এছাড়াও বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক দেশগুলোর কিছু অংশ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
সোমবার পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা (ওপেক) তাদের মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওপেকভুক্ত দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দিনে প্রায় ৭৯ লাখ ব্যারেল কমে ২০.৭৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ২৭ ভাগ পতন।
এই প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে-কীভাবে হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ওলটপালট হয়ে গেছে।
ওপেক সদস্যদের মধ্যে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত গত মাসে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন কমিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানও উৎপাদনে সামান্য হ্রাস রেকর্ড করেছে। যেমনটি করেছে আলজেরিয়া, কঙ্গো, লিবিয়া এবং গ্যাবনসহ ওপেকের আরও কিছু সদস্য দেশ। এর বিপরীতে নাইজেরিয়ার তেল উৎপাদন সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওপেক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় আঞ্চলিক সরবরাহ প্রবাহ নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদার পূর্বাভাস গত মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত রেখেছে। যেখানে চলতি বছর প্রতিদিন ১৪ লাখ ব্যারেল চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ওপেক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে চাহিদার যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে তা হবে ‘ক্ষণস্থায়ী’ এবং বছরের শেষের দিকে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে তা পুষিয়ে যাবে।
সূত্র : সিএনএন।

