স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

0
স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

নেত্রকোনায় সালেহা আক্তার নামের কিশোরী গৃহবধূকে হত্যার পর দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বারহাট্টার ফকিরের বাজারের বালুচর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. নাইমের (১৮) বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে জেলা সদর হাসপাতালে লাশ নিতে গাজীপুর থেকে ছুটে আসেন মৃত সালেহার স্বজনরা। 

এর আগে মাঝরাতে সালেহার স্বামী নাইম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে খবর দেয় শ্বশুর বাড়িতে। রাতেই সালেহাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে মৃত ঘ্ষোণা করেন চিকিৎসক। তবে আহত হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি থাকে নাইম। খবর পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা সন্দেহজনক হলে মেয়ের বাবার বাড়ির লোকজনদের খবর দেয়। এদিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।  

মৃতের পরিবার, শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ পুলিশ ও একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের জয়দেবপুর নাইমের বোনজামাইয়ের বাড়িতে থেকে গার্মেন্টসে চাকরির সময় ওই এলাকার আলাউদ্দিনের মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে। পরে গত আটমাস আগে পরিবার তাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এরপর নাইম নিজ বাড়ি নেত্রকোনায় চলে আসে এবং কলমাকান্দা হাসপাতালে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করে। কিন্তু নানা কারনে তাদের মধ্যে পরিবারিক কলহের জেরে বিরোধ হতো। কিন্তু বুধবার ভোররাতে খবর পেয়ে কিশোরী সালেহা আক্তারের স্বজনরা নেত্রকোনা হাসপাতালে ভীর জমায়। 
সালেহার মামা শ্বশুর ময়নাল, কালামসহ শ্বশুরবাড়ির স্বজনরা জানায়, বাড়িতে তারা দুজন স্বামী স্ত্রী ছিলো। রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার খবর পায়। গিয়ে দেখেন স্বামী স্ত্রী একজন আরেক জনের ওপরে পড়ে রয়েছে। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলে স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর স্বামীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অন্যকিছু নিয়ে কথা বলেননি তারা। 
এদিকে মৃত সালেহার ভাই আরিফ, শাহিন, বোন ও বাবা জানান, তাদের সাথে ফোনে নানা ধরনের কথা হয় বোন জামাই নাইমের সাথে। গত রাতে বোন জামাইয়ের স্বজনরা জানায় নাইম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। হাসপাতালে নিচ্ছে। কিন্তু ভোরে তাদের বোন মারা যাওয়ার খবর পান তারা পুলিশের কাছ থেকে। 
তারা আরও জানায়, তাদের কাছে প্রায় সময় নাইম টাকা চাইতো। গত ঈদের আগে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আসে। এছাড়াও আরও ২০ হাজার টাকা এনেছিলো দুই দফায়। আরও টাকা চেয়েছিলো কিন্তু বলেছিলাম ব্যবস্থা করে দিবো। এ নিয়ে আমার বোনের সাথে বিরোধ ছিলো। হত্যা করে এখন নাটক সাজিয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বলে। আমারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। 

বারহাট্টা থানার ওসি নাজমুল হাসান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তথ্যে কিছু রহস্য আছে। একেক রকম তথ্য মিলছে। ফাঁসির কথাও আসছে। তাই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তদন্তে বের হয়ে আসবে ঘটনার রহস্য।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here