অন্তরঙ্গ ছবির ফাঁদ: যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের নির্যাতন বেড়েছে ৩৪ শতাংশ

0
অন্তরঙ্গ ছবির ফাঁদ: যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের নির্যাতন বেড়েছে ৩৪ শতাংশ

যুক্তরাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনলাইনে যৌন ব্ল্যাকমেইল বা ‘সেক্সটরশনের’ ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরে এ ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। 

প্রতারক চক্র বন্ধুত্বের আড়ালে অন্তরঙ্গ ছবি সংগ্রহ করে পরে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ বা আরও আপত্তিকর কনটেন্ট দাবি করছে। এ ঘটনায় কয়েকজন কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। 

‘রিপোর্ট রিমুভ’ নামের একটি পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এমন যৌন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পাওয়া গেছে ৩৯৪টি। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। শিশুদের অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সহায়তায় যুক্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কিশোর-কিশোরীদের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন উত্তেজক ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতারকরা প্রথমে বন্ধুত্ব বা সম্পর্কের ভান করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও নেয়। পরবর্তী সময়ে সেই ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা বা আরও অন্তরঙ্গ কনটেন্ট দাবি করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাকমেলের শিকারদের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশই ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরী।

এই অপরাধের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে আত্মহত্যার ঘটনাগুলো। যুক্তরাজ্যে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে কয়েকজন কিশোরের আত্মহত্যা করার অভিযোগও উঠেছে। তাদের মধ্যে এক ১৬ বছর বয়সি কিশোরের পরিবার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে।

ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা ‘মলি রোজ ফাউন্ডেশন’ বলছে, এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংস্থাটি সরকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও শনাক্তকরণ প্রযুক্তি চালু করার দাবি জানিয়েছে।

ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশনও (আইডব্লিউএফ) ডিভাইসে আপত্তিকর ছবি শনাক্তকরণের আহ্বানকে সমর্থন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নীতি প্রধান হ্যানা সুইরস্কি বলেন, কোম্পানিগুলো যদি নিজে থেকে এই কাজটি না করে, তবে তাদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের একটি শিশু সুরক্ষা সংস্থা এনএসপিসিসি বলছে, ‘রিপোর্ট রিমুভ’-এর পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ডিভাইসগুলোতে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিগত সুরক্ষা জোরদার না হলে এ অপরাধ আরও বাড়তে পারে। যা কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here