যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ তার সামনে ‘ভালো কোনো বিকল্প’ ছিল না—এমন মন্তব্য করেছেন ইরান-বিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সি ইনস্টিটিউটের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ এই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করত, তাহলে তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারত।
পার্সির বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্প শুরুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানত, যা বর্তমানের চেয়েও ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করত।
তার মতে, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা ট্রাম্পের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই তিনি আগেই কড়া হুমকি দিয়ে এমন একটি চিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেন চুক্তিটি তার শর্তেই হচ্ছে।
তবে বাস্তবে চুক্তির শর্তাবলি ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কাছাকাছি বলে মনে হচ্ছে। পার্সির মতে, ট্রাম্পের নিজস্ব বক্তব্যেই বলা হয়েছে, আলোচনা ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে হবে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মূলত একটি বৃহত্তর সংঘাত এড়ানো এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

