যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে থাকা শেষ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যাচ্ছে। চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন কোনো সমঝোতা না হলে, শীতল যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশ নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ স্টার্ট চুক্তি শেষ হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দীর্ঘপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে (মিসাইল ও ওয়ারহেড) কোনো সীমা থাকবে না। ১৯৭২ সালে প্রথম বড় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি হওয়ার পর এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছেন, নতুন চুক্তি করতে সময় নেওয়ার জন্য দুই দেশ যেন আরও এক বছর বর্তমান সীমা বজায় রাখে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ মানে ‘শেষ’ এবং এটি আরও ভালো চুক্তি দিয়ে বদলানো উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি শুধু সংখ্যা বেঁধে দেয় না; দুই পক্ষকে তথ্য আদান-প্রদানেও বাধ্য করে। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং যুদ্ধের ঝুঁকি কম থাকে।
নিউ স্টার্ট চুক্তি ২০১০ সালে সই হয়েছিল। এতে উভয় পক্ষের জন্য মোতায়েন করা কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সর্বোচ্চ সীমা ১,৫৫০টি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে নিক্ষেপযোগ্য সর্বোচ্চ ৭০০টি ব্যবস্থা রাখার সীমাও ছিল।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক মার্কিন রাজনীতিক মনে করছেন, চুক্তির সীমা মানলে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়তে পারে।

