মার্কিন উত্তেজনা এড়াতে তুরস্ক যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
মার্কিন উত্তেজনা এড়াতে তুরস্ক যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সফরে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছে, তুরস্ক প্রতিবেশী ইরানের উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা আঙ্কারার কাছে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

সূত্রটি হাকান ফিদানের বরাত দিয়ে বলেন, বৈঠকে ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে তুরস্কের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। সেই সাথে তেহরানে হামলা চলে ‘বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি তৈরি করবে’ বলেও মত দেন তারা। 

গত বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে ফিদান বলেছেন, আবার যুদ্ধ শুরু করা ভুল। আমেরিকান বন্ধুদের প্রতি পরামর্শ, ইরানের ওপর একের এক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন। সূত্রটি জানিয়েছে, প্রয়োজনে তুরস্ক সহায়তাকারী ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাইও আরাঘচির সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইরান প্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং সাধারণ স্বার্থের নীতির ভিত্তিতে তার প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক ক্রমাগত জোরদার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের শুরুতে ফিদান এবং আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক মার্কিন-ইরান উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানও অচলাবস্থা কমানোর লক্ষ্যে একটি কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রস্তাব করেছেন। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে পৃথক ফোন কলের সময়, এরদোগান নেতাদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় টেলিকনফারেন্স আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প এই ধারণায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও পেজেশকিয়ান এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উরকির বিরোধিতা আংশিকভাবে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং নতুন শরণার্থী প্রবাহের ঝুঁকির কারণে। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৫৩৫ কিলোমিটার (৩৩২ মাইল) সীমান্ত রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী জনসংখ্যা রয়েছে। যার মধ্যে ২০ রাখের  বেশি নিবন্ধিত সিরিয়ান রয়েছে। অনিবন্ধিত অভিবাসীর সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

তুর্কি কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন, এই অঞ্চলে আরও সংঘাত অভিবাসনের চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং দেশটির পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here