আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিকে রাশিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কঠোর অবস্থানের খবরটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেল্লা সেরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইওসি প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কভেন্ট্রি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটলেও অলিম্পিকে রাশিয়ার জাতীয় প্রতিনিধিত্ব ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইতালিতে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে রুশ অ্যাথলেটরা কোনোভাবেই নিজের দেশের পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীত ব্যবহার করতে পারবেন না। কার্স্টি কভেন্ট্রি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইওসি-র নেওয়া আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই এবং রুশ ও বেলারুশীয় অ্যাথলেটদের শুধুমাত্র স্বতন্ত্র বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগী হিসেবেই এই গেমসে অংশ নিতে হবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই রাশিয়া ও বেলারুশকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে গত সেপ্টেম্বর মাসে আইওসি একটি বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করে যেখানে বলা হয় যে, এই দুই দেশের প্রতিযোগীরা অলিম্পিকে অংশ নিতে পারলেও তারা কোনো জাতীয় পরিচয়ে নয় বরং ব্যক্তিগত দক্ষতায় লড়বেন।
আইওসি’র ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কার্স্টি কভেন্ট্রি এবারের অলিম্পিকের ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ইতালির একাধিক শহরে অলিম্পিক আয়োজন করার এই পদ্ধতিটি আগামী দিনে একটি স্বাভাবিক মডেলে পরিণত হবে এবং মিলানো কর্তিনা গেমস ভবিষ্যতের জন্য একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। যদিও কভেন্ট্রির এই বক্তব্যের বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে আইওসির আনুষ্ঠানিক মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া মেলেনি।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইতালিতে এই শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

