ইপিআই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকা, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের ভ্যাকসিন ও এইডস রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত ওষুধ ক্রয়ের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ৪৬৩ কোটি ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা ব্যয় হবে।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় প্রস্তাব চারটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম চলমান রাখতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে চাহিদার ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন ৪১৯ কোটি ৯৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮২৪ টাকায় ইতঃপূর্বে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ইপিআই কর্মসূচির অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য তাদের কাছে প্রাইস অফার আহ্বান করা হলে প্রস্তাব দাখিল করে।
টিইসি কর্তৃক প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশকৃত দরদাতা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন (৭ ধরনের ভ্যাকসিন) সংগ্রহ করবে। এতে মোট ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৫ টাকা ব্যয় হবে।
মোট ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৬ সংখ্যক ভায়াল ভ্যাকসিন ক্রয় করা হবে। ভ্যাকসিনগুলোর উৎপাদনকারী দেশ জাপান, ডেনমার্ক, ভারত, বুলগেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বেলজিয়াম এবং দক্ষিণ কোরিয়া।
এছাড়া, সভায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের অত্যাবশ্যকীয় অ্যান্টি-টিবি ড্রাগস-৪এফডিসি ভ্যাকসিন অতিরিক্ত ক্রয়ের ভেরিয়েশন প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কমিটি।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনক্রমে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ব্যবহৃত ভ্যাকসিন মেসার্স রেনেটা পিএলসি’র কাছ থেকে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার সংখ্যক ভ্যাকসিন ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় ক্রয়ের চুক্তি করা হয়। ওষুধটির বর্তমান মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ ও সম্ভাব্য স্টক-আউট পরিস্থিতি এড়ানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ ওষুধ সংগ্রহের প্রয়োজন। ফলে মেসার্স রেনেটা পিএলসির নিকট থেকে অতিরিক্ত ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার অ্যান্টি-টিবি ড্রাগস-৪এফডিসি ক্রয়ে ভেরিয়েশন বাবদ মূল চুক্তির অতিরিক্ত ১৫ কোটি ৫১ লাখ ৩১ হাজার ২০০ টাকার ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কমিটি।
সভায় যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য অতি জরুরি GeneXpert Cartridge অতিরিক্ত ক্রয়ের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি সভার অনুমোদনক্রমে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য অতি জরুরি GeneXpert Cartridge সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসের (ইউএনওপিএস) কাছ থেকে (১৪ লাখ ৮২ হাজার সংখ্যক) ১৫৮ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার ৩৪০ টাকায় ক্রয়ের চুক্তি করা হয়।
সম্পাদিত ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী, ১৪ লাখ ৮২ হাজার সংখ্যক GeneXpert Cartridge বার্ষিক চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চলমান রাখার জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ ওষুধ সংগ্রহের প্রয়োজন। ফলে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসের (ইউএনওপিএস) কাছ থেকে অতিরিক্ত ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ সংখ্যক GeneXpert Cartridge ক্রয়ে ভেরিয়েশন বাবদ মূল চুক্তির অতিরিক্ত ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯৩৫ টাকার ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কমিটি।
সভায় এইচআইভি/এইডস রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত প্রকিউরমেন্ট অব অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ড্রাগস অতিরিক্ত ক্রয়ের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
গত ৬ মে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদনক্রমে এইচআইভি/এইডস রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত ওষুধটি মেসার্স এস এস সাইন্টিফিক কর্পোরেশনের কাছ থেকে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৪ টাকায় ক্রয়ের চুক্তি হয়। জাতীয় এইচআইভি/এইডস কর্মসূচির আওতায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য স্টক-আউট এড়িয়ে নিয়মিত/নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ ওষুধ সংগ্রহের প্রয়োজন।
এ অবস্থায়, মেসার্স এস এস সাইন্টিফিক কর্পোরেশনের কাছ থেকে ৫টি আইটেমে ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭৬০ সংখ্যক প্রকিউরমেন্ট অব অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ড্রাগস ক্রয়ে ভেরিয়েশন বাবদ মূল চুক্তির অতিরিক্ত ৩ কোটি ৫২ লাখ ১৬ হাজার ১৩০ টাকার ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

