ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের পশ্চিম সিলোনীয়া গ্রামের বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র দাস। তবে নিজের নামে নয়, পুরো এলাকায় তিনি বেশি পরিচিত ‘ঢেঁকি দুলাল’ নামে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে জীবন-সংসার টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
চার সন্তানের জনক দুলাল চন্দ্র দাসের পড়ালেখা খুব বেশি দূর এগোয়নি। ছোটবেলা থেকেই জীবিকার তাগিদে মাছ, কুঁচে ও কচ্ছপ ধরে সংসার চালিয়েছেন। পরে জীবনের প্রয়োজনে বেছে নেন আরেকটি পেশা। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে কালিদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ট্রাক্টর হলার দিয়ে ধান ছাঁটাই, গম ভাঙা, মরিচ ও বিভিন্ন মশলা পেষাইয়ের কাজ করে আসছেন তিনি। একসময় গ্রামের ঘরে ঘরে ব্যবহৃত ঢেঁকির বিকল্প হয়ে ওঠেন দুলাল। আর সেখান থেকেই তার নাম হয়ে যায় ‘ঢেঁকি দুলাল’।
গ্রামের নারীদের কাছে তিনি বেশি পরিচিত। কারণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়মিত কাজের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার এক নাম। ভোর ৪টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করেন তিনি। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কোনো না কোনো আয়মূলক কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাকে।
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এখনো লাগেনি তার জীবনে। ফেসবুক কিংবা ইউটিউব সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই দুলালের। চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময়ও তার নেই। ঈদ, পূজা কিংবা অন্য কোনো উৎসব- সব সময়ই কাজ আর উপার্জনের চিন্তায় ব্যস্ত থাকেন তিনি।
ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে, কেউ কেউ সামান্য উপার্জনও করছেন। তবুও সংসারের অভাব কাটেনি পুরোপুরি। বিভিন্ন এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির চাপ এখনো পিছু ছাড়েনি তার। বয়স এখনো ৬০-এর নিচে হলেও কঠোর পরিশ্রম, মানসিক চাপ আর রোদে-জলে নিরন্তর ছুটে চলার কারণে মাথার চুল প্রায় পুরোপুরি সাদা হয়ে গেছে।
প্রতিবেশী কানু মিস্ত্রি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বেচারা রাতদিন বিরামহীন কাজ করে। কিন্তু সেই তুলনায় ভাগ্যের চাকা এখনো তেমন ঘোরেনি। তাই সবার পরিচিত ঢেঁকি দুলাল আজও স্বস্তি পায়নি।’
অভাব আর সংগ্রামের মধ্যেও দুলাল চন্দ্র দাস থেমে যাননি। জীবনের সঙ্গে লড়াই করে চলা এই মানুষটি আজও প্রমাণ করে চলেছেন। পরিশ্রমই তার জীবনের একমাত্র ভরসা।

