প্রায় চার বছর পর আবারও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরায় দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত সপ্তাহে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। এরপর টানা পতনের ধারায় ২০২৪ সালের আগস্টে তা ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। গত সপ্তাহে এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।
গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলারের ঋণ ছাড় হওয়ার পর বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রিজার্ভ প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উচ্চ আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, অর্থপাচার এবং ডলারের বাজারে চাপের কারণে রিজার্ভ দ্রুত কমে যায়। একই সময়ে ডলারের বিনিময় হারও প্রায় ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
এদিকে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে আস্থাও বাড়ছে।

