যোগেশ নেগির ২৪তম জন্মদিন ছিল রবিবার। তার আরো দুই বন্ধু রেবেকা জ্যাকব আর আঙ্গাদ গিল মিলে জন্মদিনের পার্টি করতে গিয়েছিলেন মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে তিতওয়ালায়। মুম্বাইয়ের তরুণদের কাছে কালু নদীর তীরবর্তী তিতওয়ালা ছুটি কাটানোর জন্য পছন্দের জায়গা।
মুম্বাই থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের এই পর্যটন গন্তব্যে প্রচুর বিলাসবহুল ফার্মহাউস, পুল ভিলা এবং রিসোর্ট রয়েছে। তিন বন্ধুও তেমনি কোনো একটি রিসোর্টে গভীর রাত পর্ন্ত জন্মদিনের পার্টি করেছেন। তারপর ফিরছিলেন মুম্বাইয়ের বাসায়। যোগেশ আর আঙ্গাদের বাসা বদলাপুরে। আর রেবেকা থাকতেন বান্দ্রায়।
আঙ্গাদের বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ জেড৪ নিয়ে তারা পার্টি করতে গিয়েছিলেন। নির্মাণাধীণ দিল্লী-মুম্বাই হাইওয়ে ধরে মুম্বাই ফিরছিলেন তারা। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আঙ্গাদ নিজেই। রাত তখন ৩টা। ফাঁকা মহাসড়কে হঠাৎ গতির নেশায় পেয়ে বসে তাদের। জন্মদিনের আনন্দে কখন যে মৃত্যু ওত পেতে ছিল, তারা হয়তো টেরই পাননি।
কোনো এক বন্ধুর করা ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে গাড়ির গতি ওঠে ২৫১ কিলোমিটারে। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারান আঙ্গাদ। নির্মাণাধীন হাইওয়ের স্টিলের ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে রীতিমত উড়ে যায় বিএমডব্লিউ জেড৪। বেশ কয়েকবার উল্টেপাল্টে ২০০ মিটার দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে গাড়িটি। দৃশ্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে বিলাসবহুল জেড৪। ঘটনাস্থলেই মারা যান যোগেশ ও রেবেকা। মহাসড়কের ৫০০ মিটার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তাদের দেহের নানা অংশ। গুরুতর আহত আঙ্গাদকে মুম্বাইয়ের ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, তিতওয়ালার কোনো একটি রিসোর্ট বা ফার্মহাউসে গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপান ও পার্টি করার পর, তারা ফাঁকা ও নির্মাণাধীন মুম্বাই-দিল্লী হাইওয়েতে গাড়িটির গতি পরীক্ষা করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
মর্মান্তিক এ দুঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বদলাপুর এলাকায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে তরুণ-তরুণীদের বেপরোয়া পার্টি সংস্কৃতি নিয়েও।

