২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দুই স্তরের বাছাইপর্বের প্রক্রিয়া তৈরি করতে যাচ্ছে ইউয়েফা। নতুন এই নিয়মের ফলে সান মারিনো, জিব্রাল্টার কিংবা অ্যান্ডোরার মতো দুর্বল বা ছোট দলগুলোর বিপক্ষে ইউরোপের বড় ফুটবল পরাশক্তিদের আর মাঠে নামতে হবে না।
বাছাইপর্বের একপেশে ও কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো বাদ দেওয়ার জন্য ফুটবল বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৮ নেশনস লিগের র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ ৩৬টি দেশকে ‘লিগ ১’-এর অধীনে ১২টি দল করে মোট ৩টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। অন্যদিকে, বাকি ১৮টি দেশ খেলবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি টুর্নামেন্টে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই পদ্ধতি দুর্বল দলগুলোর জন্য আরও বেশি ন্যায়সঙ্গত হবে, যেখানে তাদের ম্যাচ জেতার বা ভালো ফলাফল করার সুযোগ থাকবে অনেক বেশি।
বিশ্বকাপের এই বাছাইপর্বের পুরো প্রক্রিয়াটি চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান ফরম্যাটের আদলে সাজানো হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে যেখানে কোনো কোনো দেশকে ৬টি আবার কোনো কোনো দেশকে ৮টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, নতুন নিয়মে এখন সব দলকেই সমান ৬টি করে ম্যাচ খেলতে হবে।
১২টি দলের একেকটি গ্রুপে থাকা প্রতিটি দল ৬টি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৩টি হোম এবং ৩টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এই প্রতিপক্ষগুলো নির্ধারণ করা হবে পটের ভিত্তিতে—প্রতিটি পট থেকে দুটি করে দল প্রতিপক্ষ হিসেবে মিলবে। এর ফলে গ্রুপ পর্বের চেনা ফরম্যাট—যেখানে একই গ্রুপের সব দল একে অপরের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলত—সেই প্রথা উঠে যাচ্ছে।
‘লিগ ১’-এর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ বা সেরা র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। আর বাকি জায়গাগুলো নির্ধারণ করা হবে প্লে-অফের মাধ্যমে। তবে কতটি দল সরাসরি সুযোগ পাবে, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি উয়েফা এখনো চূড়ান্ত করেনি।
বাকি থাকা তলানির ১৮টি দেশ অংশ নেবে ‘লিগ ২’-এ। বর্তমান নেশনস লিগের ফরম্যাট অনুযায়ী হিসাব করলে—’লিগ সি’-র গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা ছাড়া বাকি সব দল এবং ‘লিগ ডি’-র ৭টি দেশই মূলত এই স্তরে খেলবে। তবে ‘লিগ ২’-এ খেললেও এই ছোট দেশগুলোর সামনেও প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সুযোগ থাকবে।
ইউয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন বলেন, ‘নতুন এই ফরম্যাট প্রতিযোগিতার ভারসাম্য আরও উন্নত করবে, গুরুত্বহীন বা ডেড ম্যাচের সংখ্যা কমাবে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আরও আকর্ষণীয় ও গতিময় এক প্রতিযোগিতা উপহার দেবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে অতিরিক্ত কোনো ম্যাচের দিন (ডেট) না বাড়িয়েই এটি সব দলের জন্য চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।’
উয়েফা আরও ঘোষণা করেছে যে, ২০২৮ সাল থেকে নেশনস লিগের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হবে। নতুন নিয়মে টুর্নামেন্টটি ১৮টি করে দল নিয়ে মোট ৩টি স্তরে বিভক্ত হবে—যেখানে প্রতি ডিভিশনে ৬টি করে দল নিয়ে ৩টি গ্রুপ থাকবে। দলগুলোকে আগের মতোই ৬টি ম্যাচ খেলতে হবে, তবে প্রতিপক্ষ থাকবে ৫টি ভিন্ন দল।
এখানে ৬টি করে দল নিয়ে মোট ৩টি পট করা হবে। উদাহরণস্বরূপ—১ নম্বর পটে থাকা একটি দল, একই পটের অন্য একটি দলের বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে (নিজেদের মাঠে ও প্রতিপক্ষের মাঠে) ভিত্তিতে দুটি ম্যাচ খেলবে। এর পাশাপাশি ২ নম্বর ও ৩ নম্বর পট থেকে দুটি করে দলের বিপক্ষে (হোম অথবা অ্যাওয়ে ভিত্তিতে) বাকি ম্যাচগুলো খেলবে। তবে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল, ফাইনাল এবং দলগুলোর উন্নতি ও অবনমন প্রক্রিয়া আগের নিয়মেই চালু থাকবে।

