১ লিচুর দাম ১১ টাকা!

0
১ লিচুর দাম ১১ টাকা!

দিনাজপুরের লিচুর সুনাম ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে। রসালো, সুমিষ্ট ও আকর্ষণীয় এই ফল শুধু স্বাদের জন্যই নয়, সৌন্দর্যের কারণেও সবার কাছে সমাদৃত। ফলের বাজারে লিচুর চাহিদা সবসময়ই অন্যরকম, আর সেই চাহিদার বড় অংশই পূরণ করে দিনাজপুর। উন্নতমানের লিচু উৎপাদনের জন্য খ্যাত এ জেলা দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচু উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

জেলার খানসামায় চলতি মৌসুমে লিচুর বাজারে দেখা গেছে রেকর্ড দাম। বিশেষ করে সবার পছন্দের চায়না-৩ জাতের লিচু খুচরা বাজারে প্রতি পিস ১০ টাকা থেকে ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১০০টি লিচু কিনতে গুণতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ১১০০টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে। এরপরেও বিক্রি থেমে নাই।

খানসামার বিভিন্ন বাগান ও বাজারে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর দাম অস্বাভাবিক বেশি। বড় আকার, আকর্ষণীয় রঙ ও সুস্বাদের কারণে চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা সবসময়ই বেশি হয়। তবে চলতি মৌসুমে ফলন কম হওয়ায় সরবরাহ সীমিত থাকছে। এতে বাগান পর্যায় থেকেই লিচু বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মূল্যে।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর গুটি ঝরে পড়েছে। এতে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায়নি। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজার দামে। উচ্চমূল্যের কারণে হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের অতিথি আপ্যায়ন কিংবা শিশুদের প্রিয় মৌসুমি ফল ছিল লিচু। এখন সেই ফল কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় গৃহিণী কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আগে অতিথি এলে লিচু রাখা ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। এখন ১০০ লিচুর দাম এক হাজার টাকা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা বড়ই বোঝা।’

এক অভিভাবক একরামুল হক বাবু বলেন, ‘বাচ্চারা লিচু খেতে চায়। কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে ফিরে যেতে হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সামলে মৌসুমি ফল কেনা এখন বিলাসিতা আর কিছুই নয়।’ 

আরেক ক্রেতা আল আমিন বলেন, আগে মৌসুমে দু-একশ’ লিচু কিনে পরিবার নিয়ে খাওয়া যেত। এখন ১০টা লিচু কিনতেই প্রায় ১০০ টাকা লাগে। এভাবে চললে লিচু শুধু ধনীদের ফল হয়েই থাকবে।

কয়েকজন চাকুরিজীবী বলেন, ‘ফলন কমেছে এটা মানি। কিন্তু প্রতি পিস ১০-১১টাকা, যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি।’

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে ১৩০টি বাগানে লিচুর চাষ হয়েছে। চায়না-৩ ও মাদ্রাজি জাতের লিচু থেকে ভালো ফলনের আশা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সামগ্রিক উৎপাদন কিছুটা কমেছে।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, লিচুর মৌসুম শুরুর পর থেকেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠকর্মীরা বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। চৈত্র-বৈশাখ মাসে বৃষ্টি এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় লিচু রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর সুস্বাদু বেদানা লিচুসহ কয়েকটি জাত বিদেশে রফতানির জন্য আগ্রহ দেখা গেছে। আগ্রহী দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী লিচু পাঠানোর প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here