হাইতিতে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ২০২৬ সালের আগস্টে

0
হাইতিতে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ২০২৬ সালের আগস্টে

হাইতিতে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সাধারণ নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ ২০২৬ সালের আগস্টে হওয়ার কথা। 

তবে, নির্বাচনের জন্য দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি অপরিহার্য বলে জানিয়েছে প্রোভিশনাল ইলেক্টরাল কাউন্সিল।

প্রোভিশনাল ইলেক্টরাল কাউন্সিলের সভাপতি জ্যাক দেসরোজিয়েঁ’র মতে, আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা আয়োজনের প্রধান শর্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি।

ওই অঞ্চলের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হাইতি বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত। 

পরিস্থিতির আরো অবনতি হয় ২০২৪ সালের শুরু থেকে, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। হাইতিতে ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। দেশটির সর্বশেষ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইস ২০২১ সালের জুলাইয়ে নিহত হন।

দেশটি বর্তমানে পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে, তাদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হাইতিতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। তারা হত্যা, ধর্ষণ, লুট ও অপহরণ অব্যাহত রেখেছে।

২০২৩ সালে জাতিসংঘ (ইউএন) হাইতিতে ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতার মোকাবিলায় হাইতির পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করতে একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশন অনুমোদন করে। 

রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাংগুলোর প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশটি মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে। তবে এই মিশনটি নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, অর্থায়ন ও লজিস্টিক সহায়তার অভাবে মিশনের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মিশনের শুরুতে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও, সামগ্রিকভাবে এর ফলাফল মিশ্র বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, তারা কিছু এলাকায় গ্যাংদের অগ্রগতি আটকে রাখতে সক্ষম হলেও, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো নাজুক। মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও মৌলিক সেবাগুলোর ভঙ্গুর অবস্থার কারণে দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইতিতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে শুধু নিরাপত্তা অভিযান নয়, বরং এর পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগও জরুরি।

জাতিসংঘ গত অক্টোবরে জানায়, ২০২২ সালের শুরু থেকে হাইতিতে সশস্ত্র সহিংসতায় ১৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here