মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে সেখানে আরোপ করা হয়েছে একাধিক কঠোর শর্ত। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রণালি ব্যবহার করতে হলে এখন থেকে তাদের নৌবাহিনীর আগাম অনুমতি নিতে হবে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌ কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে এবং সেগুলোকে নির্ধারিত নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত পথের বাইরে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদেশি সামরিক জাহাজের চলাচল আগের মতোই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় ইরান।
আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, তাদের নৌবাহিনীর সরাসরি অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ নড়াচড়া করতে পারবে না। অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষেই কেবল জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরান জানায়, এই সিদ্ধান্ত চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়েছে। লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের পরই এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে।
তবে বাস্তবে আইআরজিসির আরোপ করা শর্তগুলো প্রণালিতে চলাচলকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

