হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে ওমান। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় সংবাদ সংস্থাটি জানায়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন ‘বিকল্প’ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
হরমুজ প্রণালি ওমানের সীমান্তসংলগ্ন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা অ্যালান আইয়ার বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানের তুলনায় এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। একদিকে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি, অন্যদিকে তীব্র যুদ্ধের কারণে আলোচনায় সময় দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। বিশেষ করে ইরানের পক্ষের অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই ব্যস্ত।
আইয়ারের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চান, কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এর অর্থনৈতিক প্রভাব দ্রুত বেড়ে চলেছে।
তবে তিনি বলেন, এটিই এখন ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায়। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে ভেবেছে এতে ইরান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে। কিন্তু ইরান হরমুজ খুলতে চায় না কারণ এতে তাদের হাতে থাকা প্রধান চাপ প্রয়োগের সুযোগ হারিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান আগের অবস্থায় ফিরতে চায় না। কারণ, তাতে ছয় মাস বা এক বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একই ধরনের হামলা চালাতে পারে।
আইয়ারের মতে, ইরানের দুটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে—প্রথমত, এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করা যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আর না ঘটে; দ্বিতীয়ত, যুদ্ধক্ষতির পুনর্গঠনের জন্য আয়ের একটি উৎস নিশ্চিত করা।

