ঝড়ে উড়ে গেছে ঘরের চালা, শিলাবৃষ্টিতে ঝাঝরা হয়ে পড়েছে অবশিষ্ট অংশ। মেঝেতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এমন পরিস্থিতিতে ভিটেমাটি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দুই হতদরিদ্র সহোদর।
উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের দিনমজুর শফিক মিয়া ও শানুর মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘরের অর্ধেকের বেশি চাল উড়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশেও অসংখ্য ছোট-বড় ফুটো, মেঝেতে তৈরি হয়েছে একাধিক গর্ত। সামনের মাটির বেড়া হেলে পড়েছে, পাশের টিনের বেড়াও ঝুলে আছে। ফলে ঘরটি বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ঘটনার সময় দুই ভাই কাজের সন্ধানে বাইরে ছিলেন। তাদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, একই ঘরের পৃথক দুটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তারা। সম্প্রতি ঝড়ে ঘরের চাল উড়ে যায় এবং শিলাবৃষ্টিতে বাকিটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃষ্টির পানি ঢুকে ঘরের ভেতরের পরিবেশ একেবারে নাজুক হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার অভাবে বাধ্য হয়ে তারা প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
শফিক মিয়ার স্ত্রী ছায়ারুন বলেন, ঝড়ে আমরা ঘরছাড়া হয়ে গেছি। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই। সরকার ও হৃদয়বান মানুষের সহায়তা চাই।
প্রতিবেশী সিরাজ মিয়া জানান, দিনমজুরির আয়ে কোনো রকমে সংসার চালানো এই পরিবারগুলোর পক্ষে ঘর মেরামত করা প্রায় অসম্ভব।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের নগদ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ থেকেও সহায়তার চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবেদন করলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ সহায়তা দেওয়া হবে।

