বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে ‘ধ্বংসের অবস্থায়’ রয়েছে এবং দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি চালু করতে চায়।
ট্রাম্প লেখেন, “ইরান আমাদের জানিয়েছে তারা ‘ধ্বংসের অবস্থায়’ রয়েছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে চায়, একই সঙ্গে তারা তাদের নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দাবি করা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই না করা পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই নৌপথে যেকোনও ধরনের অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে। এর আগেও ইরানের পক্ষ থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয় বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি অস্থিরতা দেখা দেয়।
টানা ৩৯ দিন যুদ্ধ শেষে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়ে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।
সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে এক রকম একক সিদ্ধান্তেই অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় বসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

