হঠাৎ করেই ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সহকারী বরখাস্ত

0
হঠাৎ করেই ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সহকারী বরখাস্ত

গোপনীয় তথ্য ফাঁসের ঘটনার তদন্তের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ কূটনীতিক এবং ওয়াশিংটন দূতাবাসের উপপ্রধান জেমস রস্কোকে তার পদ থেকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাত্র এক লাইনের একটি সংক্ষিপ্ত ইমেলের মাধ্যমে রস্কোর বিদায়ের খবরটি জানানো হয়। 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমস রস্কো জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় বৈঠকের তথ্য ফাঁসের ঘটনার তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের দেওয়া হুবহু ও গোপন বক্তব্য গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী এই কূটনীতিকের আকস্মিক চলে যাওয়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ কূটনৈতিক মিশনের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে কেলেঙ্কারির সম্পর্কের দায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত লর্ড ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এই নতুন ঘটনা ব্রিটিশ কূটনীতিকে আরেকবার বড় ধরনের সংকটে ফেলল।

লর্ড ম্যান্ডেলসনের বিদায়ের পর জেমস রস্কোকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং দক্ষ একজন কূটনীতিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, যিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমনকি ম্যান্ডেলসনের বরখাস্তের পর তিনি অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও সফলভাবে সামলান এবং গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরটি তদারকি করেন।

পরবর্তীতে স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নারকে স্থায়ী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে জেমস রস্কো নিজেই এই শীর্ষ পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন। বর্তমানে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক দূরত্ব এবং টানাপোড়েন মেরামত করার জন্য যখন স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর প্রধান সহযোগীর এই আকস্মিক অপসারণ তার মিশনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও এপ্রিলের শেষের দিকে ব্রিটেনের রাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর দুই দেশের মধ্যকার বরফ কিছুটা গলতে শুরু করেছিল, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও বেশ উত্তপ্ত ও শীতল রয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি সমর্থন না করার কারণে ট্রাম্প বারবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেছেন যে স্যার কিয়ার স্টারমার কোনোভাবেই ‘উইনস্টন চার্চিল’ নন, বরং তিনি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি তোষণনীতি দেখাচ্ছেন।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here