চোট সেরে দীর্ঘদিন পর আইপিএলের হয়ে মাঠে ফিরেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। চলতি আসরে প্রতিটি ম্যাচে হাই স্কোর নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার।
আসরের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে কামিন্স রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৫ বছর বয়সী ব্যাটার সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন। কামিন্স জানান, তিনি এই ব্যাটারের ভক্ত।
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সূর্যবংশী ৩৭ বলে ৫ চার ও ১২ ছক্কায় থামেন ১০৩ রানে। গত বছর তিনি আইপিএলে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ফলে আইপিএল ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৪০ বা তার কম বল খেলে দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়লেন তিনি। এক ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ ছক্কা মারার রেকর্ডটিও এখন তার দখলে।
ম্যাচ শেষে আইপিএলের চলতি আসর নিয়ে কথা বলেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।টুর্নামেন্টে ব্যাট-বলের আরও ভালো ভারসাম্যের প্রয়োজন আছে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে কামিন্স বলেন, দেখুন হয়তো আছে। আমার মনে হয়, এটাই এখানকার নিয়ম। উইকেটগুলো হয়তো ফ্ল্যাট, কিন্তু খেলাটা তো মাত্র ২০ ওভারের তাই না? এটা তো আর টেস্ট ম্যাচ নয় যেখানে উইকেট ফ্ল্যাট থাকে আর খেলোয়াড়রা পাঁচদিন ধরে ব্যাট করার সুযোগ পায়, তাই এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। খেলাটা সর্বোচ্চ চার ওভারের। হ্যাঁ, এটা ঠিক আছে। যা হওয়ার তাই হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দলটাকে এমনভাবে সাজিয়েছি যাতে ব্যাটিংয়ে বড় স্কোর করা যায়, আর বোলার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো রান কমানোর চেষ্টা করা। স্কোরগুলো হয়তো কয়েক বছর আগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন দেখাচ্ছে, কিন্তু মূল ধারণাটা এখনও একই। হ্যাঁ, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
বিশেষভাবে ফ্ল্যাট পিচ ও ছোট বাউন্ডারিতে লম্বা ব্যাটিং লাইন-আপের বিপক্ষে বোলিং করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে এই পেসার বলেন, তিনি এটিকে হতাশার চেয়ে বেশি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। এটা ঠিক আছে, এটা একটা ভালো চ্যালেঞ্জ।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক বলেন, আপনি জানেন আপনার দু-একটা ওভার খারাপ যেতে পারে, কিন্তু আপনার মনে হবে যে আপনি যদি ফিরে এসে ডেথ ওভারে সত্যিই ভালো বোলিং করেন, তাহলে সেটাই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। তাই আমি আসলে মনে করি, কিছু দিক থেকে এটা আমাদের বোলারদের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে দেয়, এটা জেনে যে আমাদের ব্যাটিং লাইন-আপ যেকোনো স্কোর তাড়া করতে পারে, হয়তো স্কোরটা বড় হবে।”
সূর্যবংশী সম্পর্কে প্যাট কামিন্স বলেন, আমার মনে হয় সে আমার নতুন প্রিয় খেলোয়াড়। সে এত জোরে বল মারে যে, তা দেখতে দারুণ লাগে, বেশ মজার। বোলার হিসেবে আপনাকে একদম নিখুঁত হতে হবে, কারণ তা না হলে বল অনেক দূরে চলে যাবে। তাই সে সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। হ্যাঁ, তার ক্যারিয়ারের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে। হ্যাঁ তার খেলার ধরণটা আমার খুব ভালো লাগে, সে খেলাটাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
সূর্যবংশীকে করা কামিন্সের প্রথম বলেই ছক্কা হয়ে যায়, যা এই কিশোরের আরও একটি নির্ভীক ইনিংসের ভিত্তি স্থাপন করে দেয়। জসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার, মার্কো জ্যানসেন, জশ হ্যাজেলউড এবং আর্শদীপ সিংসহ প্রতিযোগিতার সেরা কিছু বোলারের বিপক্ষে তাকে প্রথম ওভারে মারমুখী ব্যাটিং করতে দেখা গেছে।
গতকাল আইপিএলের দুটি ম্যাচই ছিল হাই-স্কোরিং। প্রথম ম্যাচে তো বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালসের দেওয়া ২৬৬ রান তাড়া করে জিতেছে পাঞ্জাব কিংস। দিনের দুটি ম্যাচ মিলিয়ে চার ইনিংসে উঠেছে ৯৮৬ রান।

