সু চির সাজা কমানো ও গৃহবন্দী অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

0
সু চির সাজা কমানো ও গৃহবন্দী অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী কারাবন্দি অং সান সু চির দণ্ড হ্রাসের সিদ্ধান্ত ‍নিয়েছে সামরিক জান্তা সরকার। তবে তার বর্তমান অবস্থান ও অবশিষ্ট সাজা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দেশজুড়ে কারাবন্দিদের শাস্তি এক–ষষ্ঠাংশ কমানোর ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানায়, একটি সরকারি ছুটি উপলক্ষে এই সাধারণ ক্ষমা কার্যকর করা হয়েছে। এতে অন্যান্য বন্দির পাশাপাশি ৮০ বছর বয়সী অং সান সু চির সাজাও কমেছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী দলের একজন সদস্য।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর অং সান সু চিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় মোট ৩৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল, যা পরে কমে ২৭ বছরে দাঁড়ায়। সর্বশেষ সাধারণ ক্ষমার ফলে তাকে আনুমানিক আরও ৯ বছর ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাকে প্রায় ১৮ বছর কারাভোগ করতে হতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

চলতি মাসেই এর আগে আরও একটি ক্ষমার আওতায় ৪ হাজার ৩৩৫ বন্দির সাজা কমানো হয়েছিল, সেখানেও সু চি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একাধিক ক্ষমা সত্ত্বেও তার সঠিক অবশিষ্ট সাজা ও শর্ত এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

অং সান সু চি এখনও মিয়ানমারে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তার স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিকে মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত দল সাম্প্রতিক বিতর্কিত নির্বাচনে বড় জয় দাবি করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সু চির সাজা কমানো প্রতীকী হলেও বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here