সুদানে গণহত্যা ও গুরুতর যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর শীর্ষ নেতাদের বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে দুবাইয়ে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাহিনীটির নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি), তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের নামে সেখানে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল আবাসন সাম্রাজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা দ্য সেন্ট্রি’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ১৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা) মূল্যের ২০টিরও বেশি সম্পদ রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণে। সংস্থাটি দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আরএসএফ নেতারা অর্থ ও পরিবারের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব সম্পদের বড় অংশ এসেছে সুদান থেকে পাচার হওয়া স্বর্ণের অর্থ দিয়ে। ২০১৭ সাল থেকে হেমেদতি দেশের বড় স্বর্ণখনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বর্ণ পাচার করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছেন।
দুবাইয়ের অভিজাত মেইদান রেসকোর্স এলাকার কাছে একাধিক ছয় বেডরুমের বিলাসবহুল ভিলা কিনেছেন তার স্বজনরা। এছাড়া তার স্ত্রী যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মধ্যে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় জমি কেনেন। আরএসএফ-এর আর্থিক উপদেষ্টা মুস্তফা ইব্রাহিম আবদেল নবীর নামে বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফা-য় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি সুদানের বর্তমান মানবিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এই বিলাসিতার তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরে। দেশটির প্রায় ৫ কোটি মানুষের মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে।
দ্য সেন্ট্রির জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধানী নিক ডোনোভান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত শুধু অস্ত্র নয়, আরএসএফ নেতাদের অর্থ পাচারের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে দাগালো পরিবারের দাবি, তাদের সম্পদ বৈধ ব্যবসা, বিশেষ করে গবাদিপশু বাণিজ্য থেকে এসেছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আরএসএফের বিরুদ্ধে পশ্চিম সুদানের এল-ফাশের শহরে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ও সামনে এসেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

