সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে টাইগাররা দ্বিতীয় দিন শেষে ২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১১০ রান সংগ্রহ করেছে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩ রানে অপরাজিত থাকলেও, দিনের শেষ বলে মোমিনুল হক ৩০ রানে আউট হয়ে যান। এতে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে টেস্টে এগিয়ে রয়েছে শান্তরা।
নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে তানজিদ হাসানের উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। শুরুর এই ধাক্কার পর জয় ও মাহমুদুল ৫০ রানের জুটি করেন।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাহমুদুল হাসান ৫৮ বলে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দলকে একটি শক্তিশালী সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে ১০টি চার মেরে ৬৪ বলে ৫২ রান করার পর মোহাম্মদ আব্বাসের বলে মাহমুদুল আউট হলে ৭৬ রানের এই জুটি ভেঙে যায়।
যদিও শান্ত ও হক স্কোরবোর্ড সচল রাখেন, দলীয় স্কোর ১০০-তে নিয়ে যান। তবে দিনের শেষ দিকে ৬০ বলে ৩০ রান করা মোমিনুল হককে আউট করেন খুররাম শাহজাদ,তার ইনিংসে তিনটি বাউন্ডারি ছিল।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। পরে টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৬ রানের লিড পায় তারা। পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজম ৮৪ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন, যেখানে তিনি ১০টি চার মেরে নাহিদ রানার বলে আউট হন। অন্যদিকে সাজিদ খান লোয়ার অর্ডারে নেমে দুটি চার ও চারটি ছক্কাসহ ২৮ বলে ৩৮ রান করে মূল্যবান অবদান রাখেন।
অধিনায়ক শান মাসুদ ও সালমান আলী আগা ২১ রান করে যোগ করেন, অন্যদিকে ওপেনার আজান আওয়াইস ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৩ রান করে যোগ করেন। বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা ও স্পিনার তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নিয়ে স্বাগতিদরে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন, অন্যদিকে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মধ্যাহ্নভোজের কিছুক্ষণ পরেই ১১৬ রানে ৬ রানে পিছিয়ে পড়লেও বাংলাদেশ ২৭৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। এর পেছনে প্রধান অবদান ছিল লিটন দাসের শান্ত ও কর্তৃত্বপূর্ণ ইনিংসের, যিনি ইনিংসকে ধরে রেখেছিলেন এবং লোয়ার অর্ডারকে পথ দেখিয়েছিলেন।
ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ১৬টি চার ও দুটি ছক্কা সহ ১৫৯ বলে ১২৬ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭৪ বলে তিনটি চারসহ ২৯ রান করেন, অন্যদিকে তানজিদ হাসান তিনটি বাউন্ডারি মেরে ৩৪ বলে ২৬ রান করেন। মোমিনুল হক তিনটি চারসহ ৪১ বলে ২২ রান করেন এবং মুশফিকুর রহিম দুটি বাউন্ডারিসহ ৬৪ বলে ২৩ রান যোগ করেন। লিটন দাস লোয়ার অর্ডারের তাইজুল ইসলাম(১৬) এবং শরিফুল ইসলামের অপরাজিত ১২ রান করে শক্তিশালী সমর্থন পান এবং দুজনের সঙ্গেই ৬০ রানের বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ ছিলেন সেরা বোলার, যিনি ১৭ ওভারে ৮১ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি এবং হাসান আলী দুটি উইকেট নেন। স্পিনার সাজিদ খানও একটি উইকেট শিকার করেন।

