সাতক্ষীরায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত সোয়া এক লাখ গবাদিপশু

0
সাতক্ষীরায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত সোয়া এক লাখ গবাদিপশু

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলার পশুর হাট ও খামারগুলোতে জমে উঠেছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ কেনাবেচা। এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, এসব পশুর বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ১ হাজার। সে হিসেবে প্রায় ১৯ হাজার গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঈদের আর অল্প কিছুদিন বাকি থাকায় খামারিরা শেষ মুহূর্তে পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গো-খাদ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে খামারি ও প্রান্তিক চাষিরা কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ও ব্যাপারিরা খামার থেকে তুলনামূলক কম দামে পশু কিনে হাটে বেশি দামে বিক্রি করায় বাজারে দামের চাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর জেলার ১৩ হাজার ৪৩৯টি খামারে বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার ৭৩৫টি গরু, ৬৩ হাজার ১০৩টি ছাগল, ১৫৪টি মহিষ এবং ৬ হাজার ৮টি ভেড়া। গত বছরের তুলনায় এবার পশু উৎপাদন ২ থেকে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সদর উপজেলার মাহমুদপুর ভাড়ুখালি গ্রামের নিপা ডেইরি ফার্মের মালিক রবিউল ইসলাম জানান, তার খামারে আগে ১০০টি গরু ছিল, বর্তমানে রয়েছে ১০টি। এসব গরুর বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা হলেও ব্যাপারিরা ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার বেশি দাম বলছেন না। তিনি বলেন, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

একই অভিযোগ করেন ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের খামারি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, খাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু খামার পর্যায়ে পশুর দাম কম। তবে ব্যাপারিরা হাটে বেশি দামে বিক্রি করায় সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়ছে।

জেলার বড় গরুর হাটগুলোর মধ্যে পাটকেলঘাটা, কলারোয়া, পারুলিয়া, সুড়িহাট ও কুটিঘাটা হাটে ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম বেশি। এসব হাটে ৮০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে গরু বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, ৮০ হাজার টাকার গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। কোরবানির পশুর বাজার তদারকিতে ১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা হাটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে যাতে কোনো রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি না হয়।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের সুযোগ নেই। ফলে কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here