যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরান সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন।
তিনি বলেছেন, ইরান এই সংঘাত এমন একটি অবস্থায় শেষ করতে চায়, যেখানে দেশটি ভবিষ্যতের জন্য অন্তত কিছু অর্থনৈতিক স্বস্তি ও টিকে থাকার সুযোগ পাবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারিসন বলেন, “ইরানের জন্য এটি শুধু সময়ের বিষয় নয়, বরং টিকে থাকার প্রশ্ন। তারা এমনভাবে এই সংঘাত থেকে বের হতে চায়, যাতে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতার কিছুটা পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়।”
তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিরোধ কৌশল অতীতের তুলনায় ভিন্ন। আগে ইরান মূলত আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠী ও প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে পরোক্ষ প্রতিরোধ গড়ে তুলত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান সরাসরি কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এই বিশ্লেষণমূলক মন্তব্য করলেন রস হ্যারিসন।
বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে, তবে তিনি এখনই কোনও চুক্তিকে ‘আসন্ন’ বলতে রাজি নন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বাস করে যে, সময় যত গড়াবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তত বাড়বে। সেই কারণে তেহরান আলোচনায় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে ধীরগতির কৌশল অনুসরণ করছে।
হ্যারিসনের ভাষায়, “ইরান সময়ক্ষেপণ করছে। কেননা, তারা মনে করছে, সময়ের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বেশি দ্রুত বাড়ছে।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন রূপও প্রকাশ করছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা, তেলবাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনও স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

