হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন আলুচাষিরা। এ সময় তারা সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ জানান।
বুধবার দুপুরে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকার তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে শতাধিক আলুচাষি এ কর্মসূচি পালন করেন।
সমাবেশে চাষিরা অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হলেও হিমাগার মালিকরা যোগসাজশ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভাড়া স্বাভাবিক রয়েছে। একতরফাভাবে বাড়ানো এই ভাড়া প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, এমনিতেই বাজারে আলুর দাম কম। এর মধ্যে হিমাগার ভাড়া বাড়ানোয় চাষিদের লোকসান আরও বেড়েছে। এ সময় তারা সড়কে আলু ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে আলুচাষি মজিবর মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৪ শতক জমিতে আলু চাষে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই জমি থেকে প্রায় তিন হাজার কেজি আলু উৎপাদন হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। উত্তোলন ও পরিবহন ব্যয় যোগ করলে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ টাকা ৩৩ পয়সা।
তিনি বলেন, হিমাগার মালিকরা বস্তাপ্রতি সংরক্ষণ ভাড়া ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করায় প্রতি কেজি আলুতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ টাকা খরচ যুক্ত হচ্ছে। ফলে এক কেজি আলুর মোট উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় সাড়ে ৭ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চাষিদের দাবি, আলু সংরক্ষণের ভাড়া বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হিমাগার মালিকদের একটি সিন্ডিকেট কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং আলু উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন।

