‘সংলাপ ছাড়া বিকল্প কী’- যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের

0
‘সংলাপ ছাড়া বিকল্প কী’- যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হলে সংলাপের পথেই এগোতে হবে। তার মতে, বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার বিকল্প হিসেবে আলোচনার কোনও বিকল্প নেই।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বারবার এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতির অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুমতিও সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায় দেওয়া হয়েছিল।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা যদি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই, তাহলে আমাদের কী করা উচিত? যদি আমরা সংলাপে না বসি, তাহলে বিকল্প কী?” 

তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই নেতা আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর শেষ পর্যায়ে তার নির্দেশ ছিল—‘যাও, সমস্যার সমাধান করো’।”

ইরানের প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক এখনও গভীর অবিশ্বাস ও উত্তেজনায় আবদ্ধ। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করছে।

তেহরানের অভিযোগ, কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবাননে হাজার হাজার হামলা পরিচালনা করেছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্ত ও সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে ইরান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটন। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির স্পষ্ট কোনও লক্ষণ এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে আগ্রহী নয়। বরং দেশটির নেতৃত্ব মনে করছে, দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আলোচনার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অবনতির কারণে আলোচনার পথ এখনও জটিল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় এখনও কাটেনি। সূত্র: সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here