দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধুই আরেকটি ফাইনাল নয়-এটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও তাদের সতীর্থরা দাঁড়িয়ে আছেন এমন এক কীর্তির সামনে, যা দেশের নারী ফুটবলকে নিয়ে যেতে পারে নতুন উচ্চতায়।
একসময় দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত টানা পাঁচটি শিরোপা জিতে তারা তৈরি করেছিল শক্ত এক ভিত্তি। তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্র বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২২ ও ২০২৪ সালে শিরোপা জিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
তবে এবারের ফাইনাল সহজ নয়। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল ভারত। সেই ম্যাচে ভারতের গতি ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছিল। ফলে ফাইনালে প্রতিশোধের সঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইটাও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের মূল শক্তি দলগত সমন্বয়, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং ঋতুপর্ণার সৃজনশীলতা। মারিয়া মান্ডার নেতৃত্বে মাঝমাঠ এখন অনেক বেশি পরিণত ও নিয়ন্ত্রিত। সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে দলটি মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত ভরসা করছে তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতার ওপর। পরিসংখ্যানের বিচারে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সই দেখিয়েছে- বড় মঞ্চে তারা চমক দেখাতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ফাইনাল শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়- এটি দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে আধিপত্যের নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মারিয়া-ঋতুপর্ণারা।

