শেষ ১ ঘণ্টার নাটকেই খেলা ঘুরে গেল, কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়

0
শেষ ১ ঘণ্টার নাটকেই খেলা ঘুরে গেল, কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়

চার দিন ধরে চলা টানটান রাজনৈতিক নাটকীয়তার শেষ মুহূর্তে এসে বদলে গেল তামিলনাড়ুর ক্ষমতার সমীকরণ। গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার বিমানে ওঠার আগমুহূর্তেই প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে যান অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে চেন্নাই থেকে তিরুবনন্তপুরম যাওয়ার কথা ছিল গভর্নরের। সেই সফর হলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যেতে পারত, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। এ নিয়ে শুরু হয় জল্পনা, কখনো বৈঠক বাতিলের খবর, আবার কখনো নতুন করে বৈঠকের সময় নির্ধারণ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল চরম অনিশ্চয়তায় ভরা।

শেষ পর্যন্ত গভর্নর তার সফর বাতিল করেন। ঠিক এই সময়েই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে জোটে যোগ দেয়। এতে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজয়ের জোটের আসন সংখ্যা ১১৮ পেরিয়ে ১২০-এ পৌঁছে যায়।

এর ফলে বহু প্রতীক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয় এবং সমর্থনপত্রও তার হাতে আসে বলে জানা গেছে। তবে পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রেই ছিলেন গভর্নর আরলেকার, যিনি সমর্থন যাচাই ও সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানোর সাংবিধানিক দায়িত্বে ছিলেন।

সপ্তাহজুড়ে তিনি একাধিকবার বিজয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেও আগে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাননি। টিভিকে সূত্র জানায়, গভর্নর চেন্নাই ছাড়ার আগেই সব সমর্থনপত্র রাজভবনে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টাই সফল হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গভর্নর যদি চেন্নাই ত্যাগ করতেন, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারত। একই সময়ে কেরালাতেও সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছিল, যেখানে আরলেকার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে এক ধরনের নাটকীয়তা তৈরি হয়, যা অনেকের কাছে বিজয়ের সিনেমার গল্পের সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাকে জোট গড়তেই হয়েছে।

দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে, ফলে কার্যকর আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই এমের সমর্থন মিলিয়ে শুরুতে ১১৬-এ পৌঁছালেও প্রয়োজনীয় দুই সমর্থন ছিল অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত সেই ঘাটতি পূরণ হওয়ায় সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হয়।

চার দিনের টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে সংখ্যার লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে তামিলনাড়ুর নতুন নেতৃত্বের পথে এগিয়ে গেলেন থালাপতি বিজয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here