শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধীদলের হট্টগোল-প্রতিবাদ

0
শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধীদলের হট্টগোল-প্রতিবাদ

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়াকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়েছে জাতীয় সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

রবিবার বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ও ‘নিখোঁজ’ রহস্য

সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত ১১ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়টি আসলে একটি সাজানো নাটক।

মন্ত্রী পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন, ‌জিসান মিয়ার সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে জিসান তাকে ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ খাওয়ান। বিয়ে করার কথা থাকলেও গত ১১ জুন তিনি বিয়ে না করে আত্মগোপনে চলে যান এবং তার স্বজনদের মাধ্যমে থানায় জিডি করান। পরে পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে তিনি লাকসাম এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ওই নারীসহ জিসান থানায় হাজির হন। 

বিরোধীদলের ক্ষোভ ও হট্টগোল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, ‌সাবেক আইজিপিকে গ্রেফতারের সাফল্যে আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছি। কিন্তু একজন ছাত্রনেতাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি একটি দলের চরিত্রহননের জন্য পরিকল্পিত প্লট। সংসদের ইতিহাসে একটি নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে এভাবে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।

ডা. তাহের প্রশ্ন তোলেন, জিসান এখন কোথায়? কেন সাংবাদিকদের বা তার পরিবারকে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না? আমরা এই বক্তব্য রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করার দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান এবং সরকারি দলের সদস্যরা পাল্টা চিৎকার শুরু করলে সংসদ কক্ষে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডেপুটি স্পিকার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

স্পিকারের রুলিং

পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ৩০০ বিধিতে বক্তব্যের ওপর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা যে পয়েন্ট তুলেছেন, সেটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় বা নীতি-বহির্ভূত শব্দ থাকে, তবে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।

এরপরও বেশ কিছুক্ষণ হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে সংসদের নিয়মিত কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here