যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার ঘোষণার একদিন পরই দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
বৃহস্পতিবার রাতে নাবাতিয়েহ জেলা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালানো হয়। হামলার শিকার এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাইর দেব্বা, দেইর কানুন আন-নাহর, টাইর, কাফর সির, হারুফ ও নাবাতিয়েহ। এর মধ্যে তাইর দেব্বায় নিহত হন ৯ জন এবং দেইর কানুন আন-নাহরে মারা যান আরও ৩ জন। এছাড়া দেইর আজ-জাহরানির একটি মসজিদ ও পাশের ক্লিনিকে হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় তারা এই হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। তাদের মতে, দক্ষিণ লেবানন ও বেকা অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ৮০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল সংগঠনটির সদর দপ্তর, রকেট ছোড়ার স্থান এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো।
ইসরায়েলের দাবি, অভিযানে কয়েকজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং তাদের রকেট নিক্ষেপ যন্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে।
এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহকে নতুন করে সংঘর্ষে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন এই হামলার ঘটনায় লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে আবারও উত্তেজনা বেড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

