শরীয়তপুর জেলায় মাদক কারবার ও সেবন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত প্রায় দেড় বছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে ওঠায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি উপজেলা—শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, জাজিরা, ডামুড্যা ও গোসাইরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের ঘটনা ঘটছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার, ঘাট এলাকা, নির্জন সড়ক, চরাঞ্চল ও কিছু আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা।
ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের একটি অংশ নেশার দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে বেকার যুবক ও কিছু শিক্ষার্থী এ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমিত অভিযানের বাইরে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অনেক এলাকায় রাত হলেই শুরু হয় মাদক বিক্রি ও সেবনের আসর, যার প্রভাবে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।
নড়িয়া উপজেলার এক বাসিন্দা বলেন, “আগে গোপনে মাদক বিক্রি হতো, এখন অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে হচ্ছে। যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।” জাজিরার এক অভিভাবক জানান, “সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান জোরদার, মাদক কারবারিদের তালিকা প্রণয়ন, সীমান্ত ও নৌপথে নজরদারি বৃদ্ধি, যুবকদের খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

