উত্থান-পতনের রোমাঞ্চে ভরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে শেষ হাসি হেসেছে বায়ার্ন মিউনিখ। রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে (দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪) সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে জার্মান ক্লাবটি। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৮৬ মিনিটে, যখন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
কামাভিঙ্গা মাঠ ছাড়ার পরই ধস নামে রিয়ালের রক্ষণে। ৮৯ মিনিটে তৃতীয় গোল হজম করার পর যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
এই হারের ফলে টানা দ্বিতীয় মৌসুম বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই শেষ করার শঙ্কায় পড়েছে রিয়াল। যদিও এখনও গাণিতিকভাবে লা লিগা জয়ের সম্ভাবনা আছে, তবে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকায় সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ।
টিএনটি স্পোর্টসকে রিয়াল কোচ আরবেলোয়া বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচে এমন ঘটনায় একজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই হতাশ, খুব রাগান্বিত। এটা আমাদের মৌসুম নির্ধারণী ম্যাচ ছিল।’
মুভিস্টারকে আরবেলোয়া বলেন, ‘আমার মনে হয়, রেফারি জানতেনই না যে ওর আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড ছিল। তাই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এতে একটি নকআউট ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। এমন একটি ম্যাচ, যা আমার মতে দারুণ সুন্দর ছিল, দারুণ গতিতে চলছিল, অসাধারণ মানের ছিল। সেখানেই ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে।’
কামাভিঙ্গা প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ৭৯ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার জার্সি টেনে ধরার কারণে। এরপর ৮৬ মিনিটে সময় নষ্ট করার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে লাল কার্ড দেখেন তিনি। হ্যারি কেইনের বিরুদ্ধে ফাউলের পর বল ধরে রাখায় এই শাস্তি পান ফরাসি মিডফিল্ডার।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন রিয়ালের খেলোয়াড়রাও। জুড বেলিংহাম একে ‘রসিকতা’ বলে মন্তব্য করেন। আর আন্তোনিও রুডিগার বলেন, পরিস্থিতি সবাই দেখেছে, এ নিয়ে কিছু না বলাই ভালো।
অন্যদিকে, ৮৯ মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে দেওয়া লুইস দিয়াজ রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, কামাভিঙ্গা বল ধরে রেখে দ্রুত আক্রমণের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন, তাই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
ম্যাচ শেষে রেফারির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লাল কার্ড দেখেন রিয়ালের তরুণ মিডফিল্ডার আরদা গুলের। এর ফলে আগামী মৌসুমের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
সব মিলিয়ে নাটকীয় এই হারে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিল রিয়াল মাদ্রিদ, আর সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল বায়ার্ন মিউনিখ।

