কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী ও নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ক্যাম্পে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও পয়ঃবর্জ্য পানির সঙ্গে ভেসে খাল-বিল হয়ে নাফ নদীতে মিশছে। এতে আশপাশের ফসলি জমিও দূষিত হচ্ছে। গত দুই দিনের মাঝারি বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালুখালী ছড়া ও থাইংখালী খাল দিয়ে এসব বর্জ্য লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পানি দূষিত হয়ে পড়ছে, জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনজীবন।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেচান উল্লাহ সিকদার জানান, এ ধরনের দূষণের কারণে ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত রোগ এবং ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি দূষিত পানির মাছ খাওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ সমস্যা পরিবেশের পাশাপাশি কৃষি ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্জ্যের কারণে মাছের ঘের ও ফসলি জমিতে ক্ষতি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এনজিওগুলোর সমন্বয়হীনতা ও নজরদারির ঘাটতির কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, খাল-নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

