রোনালদো-মেসির লাস্ট ডান্সের মঞ্চে কি রাজত্ব করবেন এমবাপ্পে?

0
রোনালদো-মেসির লাস্ট ডান্সের মঞ্চে কি রাজত্ব করবেন এমবাপ্পে?

ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মহোৎসব মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। স্বাভাবিকভাবেই পুরো বিশ্বের চোখ এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির দিকে। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়েও ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এখনো মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন এই দুই জীবন্ত কিংবদন্তি। বিগত পাঁচটি বিশ্বকাপ ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরেছে এই দুটি নাম। 

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চকর ক্ষণে কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, রোনালদো-মেসির সেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নতুন কোনো মহাতারকার উদয় হয়েছে কি না? ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি যে নামটি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। রোনালদো ও মেসি ইউরোপের ক্লাব ফুটবল ছেড়ে যথাক্রমে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর, ইউরোপের সেরা তারকা হিসেবে এমবাপ্পেই মূলত তাদের শূন্যস্থান পূরণ করেছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের সাফল্যগাথা ইতিমধ্যেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই দুই কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয় এবং ২৩ বছর বয়সে গোল্ডেন বুট জেতার অভাবনীয় কীর্তি রয়েছে তার ঝুলিতে, যেখানে মেসিকে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত, আর রোনালদো এখনো সেই আক্ষেপ ঘুচাতে পারেননি। 

৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩৮ বছর বয়সী মেসির জন্য এটিই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। তবে জনপ্রিয়তার মশালটি কি আসলেই এমবাপ্পের হাতে চলে গেছে, নাকি মাঠ ও মাঠের বাইরে এখনো পুরনো নায়কদের জাদুতেই বুঁদ হয়ে আছে বিশ্ব? 

বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির দিকে তাকালে দেখা যায়, মেসির আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটই সবচেয়ে আগে বিক্রি শেষ হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া লিগে খেলার কারণে সেখানে মেসির এক বিশাল ভক্তশ্রেণী তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ম্যাচের টিকিটও শেষ হয়েছে দ্রুতই, এমনকি পুনর্বিক্রয়কারী সাইটগুলোতে পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়ার একটি টিকিটের দাম আকাশচুম্বী পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

পরিসংখ্যানের বিচারে এমবাপ্পে তরুণ হলেও বিশ্বকাপের কার্যকারিতায় তিনি বাকি দুজনের চেয়ে বেশ এগিয়ে। মাত্র দুটি বিশ্বকাপ খেলেই তিনি রোনালদোর মোট গোল সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন। তবে মাঠের বাইরের জনপ্রিয়তায় এখনো রোনালদোর ধারেকাছে কেউ নেই। গুগলের গত ২৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি খোঁজা ক্রীড়াবিদ হলেন রোনালদো, আর ২০২৬ সালেও ইন্টারনেটে তাকে খোঁজার হার অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। 

আয়ের দিক থেকেও আল-নাসরের এই পর্তুগিজ তারকা বার্ষিক রেকর্ড পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াবিদের আসন ধরে রেখেছেন, যার পেছনে রয়েছে ক্লাব চুক্তি এবং বিশাল সব ব্র্যান্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট। এই তালিকায় মেসির অবস্থান দ্বিতীয় এবং এমবাপ্পে এখনো তাদের চেয়ে আয়ের অঙ্কে বেশ পিছিয়ে আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুসারী সংখ্যার দিকে তাকালেও দেখা যায় রোনালদো বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে একশ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যেখানে মেসির অনুসারী সংখ্যাও বিশাল হলেও এমবাপ্পে এই দুজনের চেয়ে এখনো অনেক দূর পিছিয়ে আছেন।

তবে সাম্প্রতিক ফর্ম এবং মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে এই মুহূর্তে এমবাপ্পেই সবার চেয়ে এগিয়ে। ইউরোপের শীর্ষ সারির ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা এই ফরাসি তারকা লা লিগার সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন, যা সৌদি প্রো লিগ বা মেজর লিগ সকারের প্রতিযোগিতার চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ। 

একই সাথে ইউরোপের মূল স্রোতের ফুটবলে খেলার কারণে বিশ্বব্যাপী তার ম্যাচগুলোর দর্শকপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক প্রচার অনেক বেশি। ফলে স্পন্সর এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বৈশ্বিক পরিচিতি এবং উপার্জনের দিক থেকে রোনালদো ও মেসি এখনো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনী আকর্ষণ হলেও মাঠের পারফরম্যান্স ও বর্তমান বাজারমূল্যে এমবাপ্পে তাদের সিংহাসনে দারুণভাবে হানা দিয়েছেন। আগামী ১৯ জুলাই কার হাতে উঠছে বিশ্বকাপের ট্রফি, হয়তো সেটাই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে দেবে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের আসল রাজা কে।

সূত্র: আল জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here