মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রমকে রাশিয়ার প্রতি মনোযোগ সরিয়ে চীন ও ইরানের দিকে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খবর অনুসারে, সাইবার কমান্ড প্রধান জেনারেল টিমোথি হাউকে তার দপ্তরের আক্রমণাত্মক কার্যক্রম রাশিয়ার ক্ষেত্রে বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সাইবার হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে চীন ও ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার হুমকি কি কমে গেছে?
রাষ্ট্রীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার (CISA) সাম্প্রতিক এক স্মারকেও রাশিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি, পররাষ্ট্র দপ্তরের উপসহকারী সচিব লাইসেল ফ্রান্সও রাশিয়ার পরিবর্তে চীন ও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার অবকাঠামোর জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-সমর্থিত ‘LockBit’ র্যানসমওয়্যার গ্রুপকে এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় হ্যাকিং গ্রুপ হিসেবে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের নীতিতে এর উল্লেখ নেই।
ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কোন্নয়নের ইঙ্গিত?
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলের অংশ হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ইস্যুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পথ তৈরি করতে চাইছে। এছাড়া, ফেব্রুয়ারি ২৮ রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আলেকজান্ডার দারচিয়েভকে নিয়োগ দিয়েছে। গত বছর থেকে এ পদ শূন্য ছিল। এর আগে, দুই দেশের কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পরস্পরের কূটনীতিক বহিষ্কার করা হয়েছিল। নতুন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল

